ধ্যানমগ্ন বামাক্ষ্য়াপা মা তারার আবির্ভাব পান কৌশিকী অমাবস্যাতেই|
ভাদ্র মাসের শুরুর অমাবস্যাই, কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত।এই পুজোর সঙ্গে জড়িত আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। একাধিক সতীপীঠ সহ কালী মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয় এই শুভ তিথিতে।
দেবী কালীর (Goddess Kali) আরাধনা সর্বজনবিদিত। হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন তিথিতে কালীর বিভিন্ন রূপের পুজো হয়। ভাদ্র মাসের শুরুর অমাবস্যাই, কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত।এই পুজোর সঙ্গে জড়িত আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র লগ্নে তারাপীঠ মন্দিরে, বিশেষ উপাচারে পুজো করা হয় তারা মায়ের৷ তবে শুধু তারাপীঠ না, অন্যান্য একাধিক সতীপীঠ সহ কালী মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয় এই শুভ তিথিতে।
কৌশিকী অমাবস্যা ২০২6-র দিনক্ষণ
কৌশিকী অমাবস্যা 2026 বৃহস্পতিবার, 10 সেপ্টেম্বর, 2026 এ|
কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য
কথিত আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ধ্যানমগ্ন বামাক্ষ্য়াপা এদিন তারা মায়ের আবির্ভাব পান। এছাড়াও শোনা যায়, এই তিথিতে কৌশিকী রূপে মা তারা বিশেষ সন্ধিক্ষণে, শুম্ভ- নিশুম্ভ নামক অসুরদের দমন করেছিলেন। সেই নাম থেকেই ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামটি এসেছে।
কে ছিলেন বামাক্ষ্যাপা?
বামাক্ষ্যাপার জন্ম বীরভূম জেলায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সমসাময়িক। হিন্দু তান্ত্রিক বামাক্ষ্যাপা, মা তারার ভক্ত ছিলেন। মা তারাকে তিনি ‘বড় মা’ বলে ডাকতেন। তারাপীঠেই দ্বারকা নদের তীরে যোগ ও তন্ত্রসাধনা করতেন তিনি। ভক্তরা বিশ্বাস করত যে, তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা আছে। বামাক্ষ্যাপা মন্দিরের নিয়মকানুন মানতেন না। এমনকি দেবতার থালা থেকেই নৈবেদ্য তুলে খেতেন।
কথিত আছে, নাটোরের মহারানীকে স্বপ্নে দেবী তারার প্রত্যাদেশ পান যে, দেবীপুত্র বলে বামাক্ষ্যাপাকে যেন আগে খাওয়ানো হয়। এরপর থেকে মন্দিরে পুজোর আগেই বামাক্ষ্যাপাকে নৈবেদ্য প্রদান এবং তাঁকে অবাধে মন্দিরে বিচরণ করতে দেওয়া হত। আরও শোনা যায়, মা তারা ভয়ংকর বেশে বামাক্ষ্যাপাকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং পরে মাতৃবেশে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। তারাপীঠ শ্মশানে ও দুমকা জেলার মালুটি গ্রামের বামাক্ষ্যাপার স্মৃতিমন্দির আছে।